শনিবার ২১ জুলাই ২০১৮   |  ৬ শ্রাবণ ১৪২৫   |   ৭ জিলকদ্দ, ১৪৩৯
Untitled Document

সমুদ্রের বুকে এক অনন্য ভুবন ‘চর বিজয়’

প্রকাশঃ রবিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৮    ১৯:১৬
জিবিডি ডেস্কঃ

কুয়াকাটা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে আনুমানিক ২০ কি. মি. সাগরপথ পেরিয়ে স্পিডবোটে অথবা যেকোনো নৌযানে ‘চর বিজয়’ যেতে দেখা মিলবে এই চরের।

ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে যেতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা এবং স্পিডবোটে মিনিট পনের সময় ব্যয় হয়। ২০১২ সালের শেষ দিকে পর্যটকদের নজরকাড়া এই চর জেলেদের কাছে অন্তত একযুগ আগে থেকেই ‘হাইরের চর’ নামে পরিচিত।

বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা এ চরে কিছু সংখ্যক পর্যটক গত বছর ডিসেম্বর মাসে এসে প্রথমে ফেসবুকে সাড়া ফেলেন। একাত্তরের বিজয়ের কথা স্মরণ করে তারা এ চরকে বিজয় চর হিসেবেই দেখতে চান। সেই থেকে অন্যান্যদের কাছেও ‘চর বিজয়’ হিসেবে পরিচিত হতে থাকে জায়গাটি।

লাল কাঁকড়ার অবাধ ছুটোছুটি আর পাখির কলতানে যে কেউ এখানে এসে মুগ্ধ হন। নিজেকে হারিয়ে ফেলেন এক অনন্য ভুবনে।

চারদিকে অবিরাম ঢেউ খেলে যাওয়া অথৈ সমুদ্র, মাঝখানে ভেসে থাকা এক টুকরো জমিন যেন ভেলার মতো ভেসে রয়েছে। আর এ ভেলার চারপাশে পাখিদের পাহারা চৌকি ও নিজেকে ঘিরে থাকা লাল কাঁকড়ার বিচরণ ভিন্ন রকম শিহরণ জাগায় সবার মনে। সেই সাথে দিগন্ত শেষে নীল আকাশ নেমে এসে গভীর মিতালির অপরূপ দৃশ্য পর্যটকদের অন্তরে কাব্যিকতা ছড়ায়।ফলে সেখানে নানা বয়সী পর্যটকরা এসে আত্মহারা হয়ে যান। তাই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এ চর ভ্রমণে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণের সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করতে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, হোটেল মালিক সমিতি, ট্যুরিস্ট সেন্টার সদস্যরা এ চরটি পরিদর্শনে সকল সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় পাঁচ হাজার একর আয়তন নিয়ে জেগে ওঠা এ চরে ইতোমধ্যে প্রায় ২ হাজার গোল, ছইলা, কেওড়া ও সুন্দরী গাছের চারা রোপণ করেছে বনবিভাগ।

স্থানীয় জেলেদের ভাষ্যমতে, বর্ষা মৌসুমে প্রায় ছ’ মাস চরটি পানিতে ডুবে থাকে। শীত মৌসুমে ধু ধু বালু নিয়ে জেগে ওঠে। এসময়ে তিন মাসের জন্য অস্থায়ী বাসা তৈরি করে মাছ শিকার এবং শুঁটকি তৈরি করে জেলেরা। মানুষের খুব একটা বিচরণ নেই বলে শীতে এখানে সমাগম ঘটে লক্ষ লক্ষ অতিথি পাখির। আবার শীত কমে এলেই চলে যায় পাখিরা যে যার আপন দেশে।

বিজয় চর ভ্রমণে আসা সমাজকর্মী লুৎফুল হাসান রানা জানান, চারদিকে সাগরের অথৈই পানি। এরই মাঝে আকাশ আর মাটির সাথে মিতালী তৈরি করেছে জেগে ওঠা এই নতুন চর। লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ তৈরি করেছে প্রকৃতির এক নান্দনিক সৌন্দর্য। এখানে যে কেউ এলেই প্রকৃতির প্রেমে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি জনি আলমগীর বলেন, সমুদ্রের মাঝে সুন্দর এ চরটিকে এখন সরকারি-বেসরকারিভাবে ব্রান্ডিং করে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এতে ভ্রমণ পিয়াসুদের কাছে কুয়াকাটা পর্যটন স্পট হিসেবে আরো বেশি আকর্ষণীয় হবে।

মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আলহাজ্ব হারুর অর রসিদ বলেন, চরটির আয়তন পরিমাপ করে পর্যায়ক্রমে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের আওতায় আনা হবে এবং পশু পাখির অভায়ারণ্য গড়ে তোলা হবে।  

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, চরটিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নৌ-পুলিশকে সাথে নিয়ে নিরপত্তা প্রদান করে হচ্ছে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত।  

জিবিডি/আরআইটি

 

 

SRM Institutes of Science and Technology Ad Space
India Education Fair 2018, Dhaka
আর্কাইভ
July 2018
SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

31

AIMS Institutes

প্রকাশক

বিপ্লব চন্দ্র চক্রবর্তী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

রবিউল ইসলাম তুষার

আমাদের সাথে থাকুন
© Copyright 2017. GEE BD. Designed and Developed by GEE IT