বৃহস্পতিবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯   |  ৯ ফাল্গুন ১৪২৫   |   ১৪ জুমাদিউল সানি , ১৪৪০
Untitled Document

রাজধানীর স্কুলগুলোতে লাগামহীন ভর্তি ফি আদায়

প্রকাশঃ মঙ্গলবার, ০৮ জানুয়ারী ২০১৯    ১৮:০১
ডেস্ক নিউজ

প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সাধারণত ডিসেম্বরের শেষে এ কার্যক্রম শেষ হয়। আর ক্লাস শুরু হয় জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। এবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা মানছে না রাজধানীর অধিকাংশ নামিদামি স্কুল। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভর্তি ও সেশন ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপাকে পড়ছেন অভিভাবকরা।

চলতি বছরের বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়, ঢাকা মহানগরে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৫ হাজার টাকার অতিরিক্ত আদায় করতে পারবে না। আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান মাসিক বেতন, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফিসহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করতে পারবে।

একই প্রতিষ্ঠান থেকে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের এক শ্রেণি থেকে পরের শ্রেণিতে ভর্তিতে সেশন চার্জ নেওয়া গেলেও পুনঃভর্তির ফি নেওয়া যাবে না। ভর্তি ফরম এবং ভর্তি ফি বাবত সরকার নির্ধারিত অর্থের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে এমপিও বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে। তাছাড়া মফস্বল এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে সেশন ফিসহ সর্বোচ্চ ভর্তি ফি হবে ৫০০, পৌর (উপজেলা) এলাকায় ১ হাজার, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় ২ হাজার এবং ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো ফি নির্ধারণ করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে ক্লাসভেদে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি করে নিচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ফির মানি রিসিপ্ট দিলেও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাকি টাকার কোনো কাগজপত্র দিচ্ছে না। বেতন, পরীক্ষার ফি ছাড়াও বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত এসব টাকা নেওয়া হচ্ছে অভিভাবকদের কাছ থেকে। এসবই জুড়ে দেওয়া হয়েছে সেশন চার্জ হিসেবে।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, প্রতি বছর ভর্তি ফি ও বেতন বাড়ানোর লাগাম টেনে ধরতে না পারায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ভর্তির নামে কোটি টাকার বাণিজ্য করছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এটা একটা অরাজকতা। এর ফলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির অভিভাবকদের বিপদে পড়তে হয়।

মনজুর আহমেদ নামে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের অভিভাবক বলেন, নতুন ভর্তির ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে ক্লাসভেদে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি করে নিচ্ছে। অতিরিক্ত যে টাকা নিচ্ছে তার কোনো কাগজপত্র দিচ্ছে না। বেতনও বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান। উম্মে হাবিবা নামে সেন্ট যোসেফ স্কুলের এক ছাত্রের অভিভাবক বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি জন্য ২২ হাজার টাকার বেশি গুনতে হয়েছে। ভর্তির সময় স্কুল থেকে খাতা, ব্যাগ, ড্রেস বাধ্যতামূলক কিনতে হয়।

রাজধানীর বকশীবাজারের অগ্রগামী শিশুনিকেতন স্কুলে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে ক্লাসভেদে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি করে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই স্কুলের ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। এই স্কুলে বইয়ে লেখা হচ্ছে মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি এবং কম্পিউটার-প্রজেক্টর ফি। আর বাকি ১২ হাজার টাকার একটি আলাদা স্লিপ দেওয়া হচ্ছে। ওই স্লিপে স্কুলের নাম এবং টাকার অঙ্কটা কম্পিউটার কম্পোজ করা এবং একটি সিল রয়েছে। এই স্কুলে ‘প্লে’ শ্রেণিতে ভর্তি জন্য নেওয়া হচ্ছে ২০ হাজার টাকা; মাসিক বেতন বাদে। এছাড়া রাজধানীর অধিকাংশ নামিদামি স্কুলের বিরুদ্ধে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজধানীর স্কুলপর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সংগঠন ‘অভিভাবক ঐক্য ফোরাম’ এর সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে একটা অরাজকতা তৈরি করা হয়। সেশন ফির নামে এটি কোটি টাকার বাণিজ্য। তিনি বলেন, প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে যাবে-এটা নিয়ম। কিন্তু ভর্তি ও সেশন ফির নামে যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়, তা ঠিক নয়। তবে এটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। এটা বন্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। তাছাড়া শিক্ষা আইনে এ বিষয়ে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।

জুনিয়র ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুল্লাহ খান বলেন, প্লে থেকে নার্সারিতে ভর্তি ফি বেতনসহ ২৮ থেকে ৩০ হাজার এবং প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি ফি ৩৫ হাজার টাকা। সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি কেন নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছুই করার নেই। সরকারের নির্দেশনামতো এত কম ফি নিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা তো তাও কম নিচ্ছি, অন্যরা আরও বেশি ফি নিচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক সরকার আবদুল মান্নান বলেন, ভর্তি ফি আদায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে ১১টিম কাজ করছে। অতিরিক্ত ফি নিয়ে কেউ পার পাবে না। ভুক্তভোগীদের বাড়তি টাকা ফেরত দিতে হবে।

জিবিডি/আরআইটি

SRM Institutes of Science and Technology Ad Space India Education Fair 2018, Dhaka
আর্কাইভ
February 2019
SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

AIMS Institutes

প্রকাশক

বিপ্লব চন্দ্র চক্রবর্তী

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক

রবিউল ইসলাম তুষার

আমাদের সাথে থাকুন
© Copyright 2017. GEE BD. Designed and Developed by GEE IT